এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার মোহাম্মদ শওকত রিয়াজ (২২) ও মোস্তাকিম কামাল তামিম (২২) নামে দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর এলাকায় এবং রাত পৌনে ১০টার দিকে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় এ দুই শিক্ষার্থী নিহত হন।

নিহত শওকত রিয়াজ চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আমিনের ছেলে। অপরদিকে নিহত মোস্তাকিম কামাল তামিম চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা সওদাগর পাড়ার রাশেদ কামালের ছেলে এবং আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৯টার দিকে চিরিংগা-বদরখালী (কেবি জালাল উদ্দিন) সড়কের রামপুর এলাকায় একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মোহাম্মদ শওকত রিয়াজ নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, তিন বন্ধু প্রাইভেটকারযোগে বদরখালীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটির ব্রেক বিকল হয়ে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে শওকত রিয়াজ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। হতাহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অপরদিকে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় রাত পৌনে ১০টার দিকে বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোস্তাকিম কামাল তামিম নামে এক মাদরাসাছাত্র নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে তামিম লোহাগাড়া বটতলী মোটরস্টেশন থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আধুনগর মাদরাসায় যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রামমুখী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তামিম গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে চমেক হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থী তামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ জানান। এতে সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় জনতা ও হানিফ পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।